Friday, May 29, 2020

আজও দেশের ১৮ অঞ্চলে কালবৈশাখীর আশঙ্কা
আজও দেশের ১৮টি অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়াবিদরা।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায়ই অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরের ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে হবে। এই সতর্কতা আজ শুক্রবারও বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস।
একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ২৫২৩, মৃত্যু ২৩
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে আরও ২৩ জন মারা গেছেন। এতে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫২৩ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪২ হাজার ৮৪৪।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন পড়েন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
বরাবরের মতোই বুলেটিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানো করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্ব মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সোয়া ৫৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন লাখ ৬২ হাজার। তবে ২৬ লাখের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ।
পুকুরের পাশে গাছে ঝুলন্ত মায়ের লাশ, পানিতে শিশুর
নোয়াখালী সদর উপজেলা থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সবাই পলাতক রয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নোয়াখালী ইউনিয়নের ৬ং ওয়ার্ডের সল্লা গ্রামের মুন্না সাহেবের বাড়ির পুকুর পাড়ের একটি গাছ থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় বিবি মরিয়ম (২৬) আর পাশের একটি পুকুর থেকে আড়াই মাস বয়সী শিশু মাইমুনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বামী আকবর আলী বাবর (৩০) কৃষি কাজ করেন। তিনি একই এলাকার মৃত সোলমানের ছেলে।
নিহত বিবি মরিয়ম নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গাঙচিল গ্রামের আবুল কাসেম মোল্লার মেয়ে এবং নিহত গৃহবধূ ৩ সন্তানের জননী ছিলেন।
নিহতের ভাই আব্দুল করিম জানান, গত কয়েক মাস ধরে নিহতের স্বামী বাবার বাড়ির পাশের বাড়ির একটি কুমারী মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে সালিশ হয়েছে। কিন্তু পরকীয়ার জের ধরে তাদের সংসারে প্রায় ঝগড়া বিবাধ চলছিল। এ সূত্র ধরে তারা আমার বোনকে গভীর রাতে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দেয় এবং শিশু ভাগ্নিকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া জানান, তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কোন কারণ জানা যায়নি। তবে নিহতের পরিবার দাবি করছে, পরকিয়ার জের ধরে যৌতুকের জন্য নিহতের স্বামী এবং তার পরিবার এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। মরদেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য নোয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা ময়না-তদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে বিস্তারিত বলা যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

Thursday, May 28, 2020

দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় আ,লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে ইউপি চেয়ারম্যানের মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক  :--  দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় ওয়ার্ড আ,লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারীর সাথে মতবিনিময় করলেন ইউপি চেয়ারম্যান মো: খলিলুর রহমান ভুট্রো বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বেলা ১১ টায় কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন সারা বিশ্ব যখন মহামারী করোনায় আক্রান্ত, তখন আমরা ও চিন্তিত আমাদের দেশ ও জাতি নিয়ে। আমাদের দেশে  ও হাজার হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, কয়েক শতাধিক মানুষের মৃত্যুতে  জাতি শোকাহত। আমরা নাগরিক হিসেবে কতটুকু সরকার ঘোষিত স্বাস্হ্য বিধি মেনে চলছি, জনগনকে বুঝাতে হবে ।সকল স্বাস্হ্যবিধি মেনে চলা ও অসহায় দুস্হ দের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান। এ সময় উপস্হিত ছিলেন ওয়ার্ড আ,লীগের সভাপতি-- লুৎফর রহমান, ইলিয়াস আলী, আমিনুল ইসলাম ফুরুই,ডা. রবিউল হক, শওকত আলী, লিয়াকত আলী, নাসির উদ্দীন, সহিদুল ইসলাম সর্দার,আব্দুস সবুর বিশ্বাস, ওয়ার্ড আ,লীগের সেক্রেটারী- শওকত আলী, রেজাউল করিম মিন্টু,  সিরাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, ফকির শেখ, আব্দুস সালাম  আশরাফ আলী, সাঈদুর রহমান সাঈদ, আব্দস সালাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সার্বিক পরিচালনা করেন ইউপি সচিব মহিউদ্দিন।


Tuesday, May 26, 2020

দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ খাসকরার খোকন আটক


নিজস্ব প্রতিবেদক :  দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ি পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে খাসকরার খোকন (৩০) গাঁজাসহ আটক হয়েছে। পুলিশসুত্রে জানাগেছে, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মেজবাহুর রহমান ও এএসআই রওশন আলীর নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে উপজেলার মুক্তারপুর লাবনি ইট ভাটার কাছে থেকে খোকনকে আটক করে পুলিশ সদস্যরা। এসময় খোকনের কাছে সাড়ে ৩শত গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ। খোকন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকরা ইউনিয়নের তিয়রবিলা গ্রামের তারাচাঁদের ছেলে। কার্পাসডাঙ্গা ফাঁড়ি এসআই মেসবাহুর রহমান জানান, আজ সকালে খবর পেয়ে তাকে মুক্তারপুর রাস্তায় থেকে গাঁজাসহ তাকে আটক করি। খোকন মাদকের একাধিক মামলার আসামী। দামুড়হুদা মডেল থানায় আসামীকে সোপর্দ করা হবে।




২৪ ঘন্টায় মৃত্যুর মিছিলে আরও ২১ জন, নতুন শনাক্ত ১১৬৬
মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে ভাইরাসটিতে মোট ৫২২ জন মারা গেলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ১৬৬ জন। ফলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬ হাজার ৭৫১ জনে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন পড়েন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
বুলেটিনে বরাবরের মতোই করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।


চীনের উহান শহর থেকে গত ডিসেম্বরে ছড়ানো করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬ লাখেরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা তিন লাখ ৪৮ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে ২৩ লাখ ৮১ হাজারের বেশি রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ।

Monday, May 25, 2020

আলমডাঙ্গার আসমানখালীতে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-১
কুড়িগ্রামে ২ ট্রাকের মুখোমুখি ...
চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার আসমানখালীতে দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে  মোটরসাইকেল চালক রাশেদুজ্জামান টোকন (২৮) নিহত   হয়। জানা গেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার সাহেবপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে, আহত হয়েছে নিহতের চাচাতো ভাই রিফাত ও শামীম 
আশংকাজনক অবস্থায় রাজশাহী রেফার্ড করেছে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বন্দর রামনগর মোড়ে  এঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.সোহানা আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আলমগীর কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঈদের নামাজে সেজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু
সিরাজগঞ্জে ঈদের নামাজ পড়ানোর সময় সেজদারত অবস্থায় এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ইমামের নাম আইউব আলী (৭০)। আজ সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রুপবাটী ইউনিয়নের শেলাচাপরী মধ্যপাড়া জামে মসজিদে ঈদের জামাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ইমাম আইউব আলী নন্দলালাপুর আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র আরবি প্রভাষক ছিলেন। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান।
ওসি বলেন, ঈদের নামাজ পড়ানোর সময় প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সেজদায় গিয়ে আর ওঠেননি তিনি। পরে মুসল্লিরা তাকে তুললে দেখা যায়, তার মৃত্যু হয়েছে।
পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ পড়ল ৬২ গ্রাম
২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনার উপকূলীয় কয়রার বাঁধ ভেসে আইলার আঘাতে। এরপর ১১ বছরেও তা নির্মিত হয়নি। এবার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে বাঁধের অবশিষ্ট অংশও। এমন পরিস্থিতিতে কয়রার মানুষ নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ তৈরি করছেন। আইলার আঘাতের সেই দিবসেই এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে।
তাই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের ওপর পানির মধ্যে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসী ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। নামাজ শেষে তারা আবার বাঁধ মেরামতের কাজে নেমে পড়েন।
বাঁধের কাজে নিয়োজিত মানুষদের জন্য সকালে সেমাই ও দুপুরে খিচুড়ির ব্যবস্থা করা হয়। এর কিছুও ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
কয়রা উপজেলার ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুল গফ্ফার ঢালি বলেন, বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনীহার কারণেই আজ কয়রার মানুষকে লোনা পানিতে ডুবতে হল। জোড়াতালির কাজ কোনও কাজেই আসেনি। কিন্তু অর্থের অপচয় হয়েছে।
উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সরদার নুরুল ইসলাম বলেন, আইলার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আন্দোলন ধুলিষ্যাৎ করে দিলো আম্পান। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে এখন কয়রার মানুষকে এত ভোগান্তি পোহাতে হত না।
কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবির বলেন, নোনা জলে মানুষ চরম ভোগান্তিতে বসবাস করছে। আজ ঈদের ভাঙ্গা বাঁধের পাশে অনুষ্ঠিত হবার পর সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। গত ২০ মে আম্পানের তাণ্ডবলীলায় নদী ও সমুদ্রের নোনা জলে বিলীন হয়ে গেছে এ অঞ্চলের মানুষের জনজীবন। বাঁধ ভেঙে অস্বাস্থ্যকর দূষিত নোনা পানির তলে অবস্থান করছে উপজেলাটির ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৬২টি গ্রাম।
তিনি আরো বলেন, আম্পানের ফলে উপজেলার ১ লাখ ৮৪ হাজারেরও অধিক মানুষ হয়েছে গৃহহীন। নোনা পানিতে ডুবে গেছে সাড়ে ৪ হেক্টর চিংড়ি ও সাদা মাছের ঘের। নষ্ট হওয়া ১০-১১ মেট্রিক টন চিংড়ি ও সাদা মাছের বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। নেই খাওয়া ও থাকার জায়গা, নোনা পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে সুন্দরবন কোল ঘেঁষা উপজেলার মানুষেরা।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য হরেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আইলার পর থেকে এ জনপদের মানুষ বেড়িবাঁধ নিয়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেছেন। আম্পানের আঘাতে সেই যুদ্ধ আবার নতুনভাবে শুরু করতে হল।
কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়রাবাসীর বেড়িবাঁধ নিয়ে আন্দোলন ২৫ মে থেকে নতুন মাত্রায় যুক্ত হবে। এখন পর্যন্ত টেকসই বাঁধ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব কিছু ঠিকাদার দিয়ে করা কাজের মান ছিল নিম্মমানের। ফলে আম্পানের আঘাতে সেসব স্থানই আগে ভেঙেছে আর এলাকা লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এখানে ভালো ফসল হয়, মাছ চাষ হয়। এখন কয়রার মানুষ বাঁধ চায়। ত্রাণের দরকার হবে না। প্রয়োজন টেকসই বাঁধ।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহ বলেন, আইলা বিধ্বস্ত কয়রা এখন আম্পানে বিধ্বস্ত হয়ে আরও মুখ থুবড়ে পড়েছে। কয়রার ৪টি ইউনিয়রে সমগ্র এলাকা লোনা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। কয়রার মানুষ এখন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা ঈদের দিন বাঁধের ওপরই নামাজ আদায় করে সেমাই খেয়ে মেরামতে নেমে পড়েছেন। দুপুরে তাদের জন্য খিচুড়ির আয়োজন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার আঘাতে কয়রার পাউবোর বেড়িবাঁধের ২৭টি পয়েন্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ২০ মে আম্পানের আঘাতে কয়রার বেড়িবাঁধের ২৪ পয়েন্ট ভেঙে আবারও লোনা পানিতে সয়লাব হয়

Sunday, May 24, 2020

দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় এনজিও কর্মির মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক :-দামুড়হুদার মুন্সিপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় থেকে  এনজিও কর্মি সাইফুল ইসলাম (৩৫)  নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার(২৫ মে) সকালে দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।দামুড়হুদা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই)তপন কুমার নন্দী প্রতিবেদক কে জানান, মুন্সিপুর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি মেহগনি বাগানে থেকে দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা গ্রামের নুতনপাড়ার আব্দার আলীর ছেলে  সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।মরদেহে কানের ভিতরে লোহার রড় ঢুকানো চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে অভিনব কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। সে ব্র্যাক এনজিও তে চাকুরি করত। এদিকে গুঞ্জন রয়েছে গত রবিবার  গ্রামে জনৈক এক ব্যক্তির সাথে গরুর মাংস নেয়া কে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে জানা যায়।  সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা  সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্হলে ছুটে আসেন সহকারি পুলিশ(সার্কেল) সুপার আবু রাসেল, দামুড়হুদা মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল খালেক। 


পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা

একদিকে করোনা, অন্যদিকে ঘূর্ণীঝড় আম্ফানের ছোবল। এরই মাঝে খুশির বার্তা নিয়ে হাজির মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। করোনা এবং আম্ফান ম্লান করে দিয়েছে ঈদের খুশি। করোনার প্রাদূর্ভাবে এবার আমরা কেউ কারো বাড়ি যেতেও পারবেনা। বুকে বুক মিলিয়ে ভাগাভাগি করতে পারবেনা ঈদের খুশি। করোনা আমাদের কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে আমরা সকলেই হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছি। আসুন, আমরা করোনার শিক্ষাকে মনে প্রাণে ধারণ করে সকল ভেদাভেদ ভুলে নীতি-নৈতিকতার পরিবর্তণ করি। অসহায়দের প্রতি বাড়িয়ে দিই সাহায্যের হাত। আর
করোনা থেকে মুক্তি পেতে আমরা সবাই মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি। এবারের ঈদে এই হোক আমাদের সকলের প্রত্যাশা। সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।


                          শুভেচ্ছান্তে-ইকবাল রেজা                              প্রভাষক                                       মুজিবনগর মহিলা কলেজ
অনির্দিষ্টকাল জনগণের আয়ের পথ বন্ধ রাখা সম্ভব নয় ঃ প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পুনরায় চালু করতে করোনাভাইরাস মহামারিকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী চলমান লকডাউন আরো শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, অনির্দিষ্টকাল জনগণের আয়ের পথ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়।
ঈদ-উল-ফিতরের প্রাক্কালে আজ সন্ধায় জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে জনগণের সহায়তায় সরকার যে সব কর্মসূচী চালু করেছে, তা বর্তমান সঙ্কট না যাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘যতদিন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার সহ বিভিন্ন বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলে এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে করোনাভাইরাসের এই মহামারী সহসা দূর হবে না। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকবে না। যতদিন না কোন প্রতিষেধক টীকা আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন করোনাভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো আমাদের বাঁচতে হবে। জীবন-জীবিকার স্বার্থে চালু করতে হবে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সকল দেশই ইতোমধ্যে লকডা্উন শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষের আয়-রোজগারের পথ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তো নয়ই।’
করোনাভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাবকে ঘিরে প্রাথমিকভাবে ২৬ মার্চ ১০ দিনের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। কোভিড-১৯ থেকে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে তা ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
একইসঙ্গে ২৬ এপ্রিল থেকে সরকার কিছু পোশাক কারখানা খুলে দেয়ার অনুমতি দেয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা যায়, ৭ হাজার ২শ’ কারখানার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কারখানা খুলে দেয়ায় ঢাকার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের মতো বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হেলথ কোড এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সারাদেশে বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) থাকা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলো খুলে দেয়া হয়। ১০ মে থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাজার ও শপিংমল খোলারও অনুমতি দেয় সরকার ।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে ঘরে বসে ঈদের আনন্দ আপনজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পাশাপাশি দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও সামর্থবানদের প্রতি তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘সবাইকে আমি ঘরে বসেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই দুঃসময়ে আপনি আপনার দরিদ্র প্রতিবেশি, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর কথা ভুলে যাবেন না। ’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনার যেটুকু সামর্থ্য আছে তাই নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। তাহলেই ঈদের আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে আপনার ঘর এবং হৃদয়-মন।’
তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। পাশাপাশি ডাক্তার, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের যাঁরা সামনে থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরও অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন তাঁদেরকেও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
সুপার সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে জান-মালের ক্ষয় ক্ষতিতে দু:খ প্রকাশ করে লোকসানের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী ।
তিনি বলেন, ‘কথায় আছে বিপদ কখনও একা আসে না। করোনাভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে গত বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগাম বিভাগসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ‘আমপান’ আঘাত হানে।’
আল্লাহর অশেষ রহমত ও সরকারের আগাম প্রস্তুতির কারণে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে জন্য বিভিন্ন দ্বীপ, চরাঞ্চল এবং সমুদ্র-উপকূলে বসবাসকারী ২৪ লাখেরও বেশি মানুষ ও প্রায় ৬ লাখ গবাদিপশু আমরা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বাত্মক প্রস্তুতি সত্ত্বেও গাছ ও দেয়াল চাপায় বেশ কয়েকজন মানুষ মারা গেছেন এবং বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আমি তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আমরা ইতোমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছি এবং ঘরবাড়ি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
এ বছর এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস সারা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপর ঘূর্ণিঝড় আমপানের তান্ডবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবছর আমরা সকল ধরনের গণ-জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছি। কাজেই স্বাভাবিক সময়ের মত এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করা সম্ভব হবে না।’
তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, ‘ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ইতোপূর্বে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন, স্বাধীনতা দিবস এবং বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানও জনসমাগম এড়িয়ে রেডিও, টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে।
করোনার বিস্তাররোধে সরকারের পদক্ষেপ প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা চিকিৎসা সক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি করেছি। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হাসপাতালকেও আমরা করোনাভাইরাস চিকিৎসায় সম্পৃক্ত করেছি।’
তিনি বলেন, ‘জরুরিভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাঁরা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। হাসপাতালগুলোতে সকল ধরনের রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
কর্মহীন মানুষের সহায়তার জন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ খাদ্য সহায়তা ছাড়াও দেয়া হচ্ছে নগদ অর্থ। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, ১০ কেজি টাকা দরে বিক্রির জন্য ৮০ হাজার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মে মাসে দরিদ্র পরিবারের জন্য অতিরিক্ত ৫০ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে তাঁরা এই চাল কিনতে পারবেন। কাজ হারিয়েছেন কিন্তু কোন সহায়তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত নন এ ধরনের ৫০ লাখ পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে মোট ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে।’
প্রধানমন্ত্রী কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং মসজিদের ইমামদের জন্যও সরকারের পৃথক বরাদ্দ তুলে ধরে বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য দু-দফায় ১৭ কোটিরও বেশি এবং সারা দেশের মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ১২২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সহায়তার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকান্ড এবং উৎপাদন ব্যবস্থাকে পুনরায় সচল করতে তাঁর সরকার ইতোমধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যা জিডিপি’র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।’
তিনি বলেন, ‘রপ্তানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কৃটির শিল্প, কৃষি, মৎস্যচাষ, হাঁসমুরগী ও পশুপালন খাতসহ ১৮টি অর্থনৈতিক খাতকে এসব প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় আনা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কাজ হারানো যুবক ও প্রবাসী ভাইবোনদের সহায়তার জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনকে ৫শ’ কোটি টাকা করে সর্বমোট ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’
এই দুর্যোগ মুহূর্তে বোরো ধানের বাম্পার ফলন আমাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর প্রায় ৪৮ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ইতোমধ্যে বোরো ধান কাটা-মাড়াই প্রায় শেষ।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃষকগণ যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পান সেজন্য ইতোমধ্যেই আমরা ধান-চাল সংগ্রহ শুরু করেছি। চলতি মওসুমে ২২ দশমিক ২৫ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে যা গত বছরের তুলনায় ২ লাখ মেট্রিক টন বেশি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধান কাটা-মাড়াইয়ে সহায়তার জন্য আমরা কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন্ড হারভেস্টর এবং রীপার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। এজন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই দুর্যোগ মুহূর্তে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় আমি কৃষক ভাইবোন ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং ধানকাটায় সহযাগিতা করার জন্য ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলাম ধান কাটা-মাড়াইয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে। আমার নির্দেশ শিরোধার্য্য করে নিয়ে তারা কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে কৃষকলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধান কাটায় সহায়তা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ জন্য কৃষকদের কোন অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। কৃষকরাও দ্রুত ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন।’
রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা কার্যকর করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘যাঁরা কাজে যোগ দিতে পারেননি, তাঁরাও শতকরা ৬০ ভাগ বেতন পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে এ প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন,‘দোকান-পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় একদিকে মালিকদের আয় যেমন বন্ধ রয়েছে, তেমনি কর্মচারীরাও বিপাকে পড়েছেন। বেশিরভাগ দোকান মালিকের কর্মচারীদের বেতন দেয়ার সামর্থ্য নেই। ফলে তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’
তাঁর সরকার ঈদের আগে স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য নিয়মনকানুন মেনে কিছু কিছু দোকানপাট খুলে দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছেন এবং যাঁরা দোকানে কেনাকাটা করতে যাচ্ছেন, আপনারা অবশ্যই নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন। ভিড় এড়িয়ে চলবেন।’
করোনার সংক্রমণ যেন না বাড়ে সে বিষয়ে তিনি সকলকে পুণরায় সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। মনে রাখবেন আপনি সুরক্ষিত থাকলে আপনার পরিবার সুরক্ষিত থাকবে, প্রতিবেশি সুরক্ষিত থাকবে, দেশ সুরক্ষিত থাকবে।’
শেখ হাসিনা বিপদে ধৈর্য ধারণ করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান পুণর্ব্যক্ত করে বলেন,‘ঝড়-ঝঞ্ছা-মহামারি আসবে। সেগুলো মোকাবেলা করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজন জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সঙ্কট যত গভীরই হোক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা উৎড়ানো কোন কঠিন কাজ নয় তা আপনারা আবারও প্রমাণ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতা এবং সমর্থনে আমরা করোনাভাইরাস মহামারীর আড়াই মাস অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে সমর্থ হয়েছি। যতদিন না এই সঙ্কট কাটবে, ততদিন আমি এবং আমার সরকার আপনাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ উৎসবের জন্য মহান আল্লাহতায়ালা ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এক মাসের কষ্ট আর ক্লান্তিকে ভুলে গিয়ে এদিন আনন্দ ও খুশিতে মেতে উঠার দিন।’
তিনি বলেন, ‘এ বছর আমরা স্বশরীরে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হতে বা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না পারলেও টেলিফোন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আত্মীয় স্বজনের খোঁজখবর নেব এবং এভাবেই সকলের সঙ্গে একযোগে আল্লাহ প্রদত্ত এই মহান নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করবো।’
বক্তৃতার শুরুতে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোন এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা সহ ’৭৫ এর ১৫ আগষ্টের সকলকে শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
পরিশেষে বিদ্রোহী কবি এবং মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান-‘
‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,’র কয়েকটি পংক্তি তুলে ধরে বক্তৃতা শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঈদের দিন সারাদেশে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আকাশ এখনো মেঘলা। এ মেঘলা আকাশ আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এদিকে আগামিকাল মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে।
ফলে ঈদের দিন দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, রবি ও সোমবার আকাশ মেঘলা থাকবে। এর মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিভাগগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম।
আর ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।
সারাদেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে সোমবার।
শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সূত্র, বাংলাদেশ জার্নাল
দামুড়হুদা উপজেলার  সর্বস্তরের জনগণকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারমেন আলি মুনছুর বাবু
ঈদুল ফিতর দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও আত্মসংযমের পর মুসলিম উম্মাহর জন্য আসে সুখের বার্তা নিয়ে। তাই দামুড়হুদা উপজেলার সর্বস্তরের সকলকে এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। হিংসা বিদ্বেষ ও ধনী-গরীবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই নিরাপদে ও সুস্থ্যতার সহিত ঈদ উদযাপন করবে বলে আমি দোয়া কামনা করছি। রমজান আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তাই আমাদের প্রত্যেককে সংযমী হতে হবে এবং গরিব, দুঃস্থ, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে থেকে আদর্শ সমাজ গড়ে তোলার বিষয়ে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার মানসিকতা জাগ্রত করতে হবে। আসুন করোনা প্রতিরোধে কেনাকাটা ও ঘুরাঘুরি পরিহার করে সকলে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি এবং আল্লাহর কাছে বেশী বেশী দোয়া করার মাধ্যমে এবছরের ঈদুল ফিতর উদযাপন করি’।