Monday, January 27, 2020

তোর আল্লাহ কি এখন তোকে বাঁচাতে আসবে? পুলিশ

বর্তমানে ভারতে নাগরিকত্ব (সিএএ) সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ চলছে। দেশটির উত্তরপ্রদেশ (ইউপি) রাজ্যেও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি যে নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছে রাজ্য পুলিশ তা অবর্ণনীয়। বিশেষ করে রাজ্যের মুসলিম বাসিন্দাদের উপর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে ইউপি পুলিশের বিরুদ্ধে। মুসলিম নারী-পুরুষ তো বটেই এমনকি শিশুদের পর্যন্ত রেহাই দিচ্ছে না তারা।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কারাভান ডেইলিতে ইউপি পুলিশের নির্যাতনের ভয়াবহ সব কাহিনী উঠে এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের উপর নির্যাতনের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন পোর্টালটি।
উইপি’র মুজাফফরনগর শহরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৪ বছর বয়সি একটি শিশু জানিয়েছে, কীভাবে পুলিশ আগুনে গরম করা লোহার রড দিয়ে তার হাত পুড়িয়ে দিয়েছে।
শিশুটি বলে, ‘পুলিশ গরম লোহার রড দিয়ে আমার হাত পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা আমাকে রাস্তায় জ্বলতে থাকা আগুনের মধ্যে ফেলে দিতে চেয়েছিল কিন্তু দুইজন পুলিশ আমাকে রক্ষা করে।’
পুলিশি নির্যাতনের শিকার শিশুটি বলে, ‘তারা(পুলিশ) আমাদেরকে এবং আমাদের পবিত্র কোরানকে গালি
দিয়েছে। দুইদিন আটকে রাখার সময় কোন খাবারও দেয়নি। এমনকি পুলিশ যে আমাদের আটকে রেখেছে এই খবরটিও পরিবারের সদস্যদের জানানোর কোন ব্যবস্থা করেনি।’
সে উল্লেখ করে একজন পুলিশ আমার কাছে এসে বলে, ‘তোর আল্লাহ কি এখন তোকে বাঁচাতে আসবে?’  এছাড়া পুলিশ তাদেরকে জয় শ্রী রাম স্লোগান দিতেও বাধ্য করেছে বলে জানায় নির্যাতিত শিশুটি।
প্রসঙ্গত, ইউপিতে পুলিশি নির্যাতনের যে অভিযোগ রয়েছে তা সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়েছিল কারওয়ান-ই- মোহাব্বত টিম। তাদের প্রতিবেদনেই এই শিশুটির নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।  
ইউপি পুলিশ কম বয়সি শিশুদের থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের নির্মমভাবে প্রহার করে। পুলিশের প্রহারের শিকার অনেক শিশুকেই আহত অবস্থায় দেখতে পেয়েছে টিমের সদস্যরা।
তারা দেখতে পান, পুলিশ হেফাজত থেকে তিন সপ্তাহ আগেই মুক্তি পেলেও এখনও ভয়ে কাঁপছিল ছেলেটি।  সে জানায়, সিএএ’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় সে তার ভাইয়ের খোঁজে রাস্তায় গিয়েছিল কিন্তু পুলিশ তাকে বিক্ষোভকারী সন্দেহে আটক করে।  এরপর তাকে নির্মমভাবে পেটায়। রড দিয়ে তার হাত পুড়িয়ে দেয়।  
এরপর তাকে অবৈধভাবে একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে দুইদিন আটকে রাখা হয়। এই দুইদিন তাকে কোন খাবারই দেয়া হয়নি। শিশুটি জানায় ওই ক্যাম্পে আটকে রাখা কাউকেই কোন খাবার দেয়া হতো না। বিশেষ করে যাদের পরনে কুর্তা পাজামা রয়েছে অর্থাৎ পোশাক দেখে মুসলমান মনে হয়েছে তাদেরকেই ক্যাম্পে আটকে রেখেছে পুলিশ।


ছেলেটি জানায়, প্রথম রাতে পুলিশ তাকে মারধোর করার পর ১০০ জন বিক্ষোভকারীর নাম বলার জন্য জোরাজুরি করতে থাকে। শুধু তাকেই নয় আরো যারা ওখানে ছিল তাদের সবার প্রতিই একই রকম আচরণ করেছে ইউপি পুলিশ।
এছাড়া ইউপির সামভাল শহরেও ছোট শিশুদের উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা জানতে পারা যায়। কারওয়ান-ই-মোহাব্বত টিমের তথ্য অনুযায়ী, সামভাল শহরে এখনো ১৯ জন শিশু পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
ইউপির মুজাফফরনগর, মিরাট, সামভাল এবং ফিরোজাবাদ এই চারটি শহরে আটককৃত ব্যক্তিদের উপর চরম নির্যাতন করেছে পুলিশ। মুজাফফরনগরে একটি এতিমখানা মাদ্রাসা থেকে ৪০ জন শিশুকে পুলিশ আটক অরে মারধোর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

0 comments: