Tuesday, January 21, 2020

নৌকা জেতাতে ঘরে ঘরে গণসংযোগের নির্দেশ শেখ হাসিনার

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিতে ডোর-টু-ডোর গণসংযোগ করতে নির্দেশ দিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি নেতাদের বলেন, নির্বাচনে জিতলে হলে ভোটারদের ঘরে ঘরে যেতে হবে শুধু বাইরে বাইরে আর অফিসে বসে গণসংযোগ করলে হবে না। সিটি নির্বাচনকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা নির্বাচনে জিততে চাই। সেইভাবেই আামদের চেষ্টা করতে হবে।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভায় তিনি এ সব নির্দেশনা দেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র সারাবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দলের নেতারা জানান, সভায় উত্তরে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে নির্বাচনটা হচ্ছে সেই নির্বাচন কীভাবে সুষ্ঠ করা যায়, সেই নির্বাচনে কীভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে সে বিষয়ে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন নেত্রী। নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে দলের দুই প্রবীণ নেতাকে টিম লিডার করে কমিটিও অনুমোদন দিয়েছেন তিনি। উত্তরে দলের উপদেষ্টা পরিষদ তোফায়েল আহমেদ এবং দক্ষিণে আমির হোসেন আমুকে টিম লিডার করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় মূলত দুই সিটির নির্বাচন নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, এছাড়াও মুজিববর্ষ উদযাপন নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে মুজিববর্ষের কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য দ্রুত বিভাগীয় সম্পাদকীয় উপ-কমিটি গঠন করা হবে। উপ-কমিটিগুলো মুজিব বর্ষে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী এবং দল সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোটারদের ডোর-টু-ডোর গণসংযোগ করার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি দলীয় নেতাদের উদ্দেশ বলেন, আমাদেরকে ঘরে ঘরে যেতে হবে। শুধু বাইরে বাইরে অফিসে বসে, সভা-সমাবেশ করলে হবে না। প্রতিটি ভোটারের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে হবে। এই নির্বাচন আমাদেরকে খুব সিরিয়াসলি নিতে হবে। এটা আমাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা জিততে চাই। সেইভাবেই আামদের চেষ্টা করতে হবে। ভোটারদের ঘরে ঘরে যেতে হবে। সে লক্ষ্যেই নির্বাচনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সম্পাদকীয় উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর। তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি তার প্রস্তাবে সম্মতি জানান এবং উপ-কমিটির সদস্য সংখ্যা নির্দিষ্ট করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও প্রতিটি বিভাগীয় সম্পাদকীয় উপ-কমিটিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। নেত্রী এব্যাপারে বলেন, এবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সবাইকে উপ-কমিটিতে সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এছাড়াও সারাদেশের সাংগঠনিক শাখার সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে দফতরের যোগাযোগ ডিজিটালাইজের মাধ্যমে আরও কীভাবে বৃদ্ধি করা হয়, সেদিকে পদক্ষপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। পাশাপাশি দলের চলমান ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারের কাজকে আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দেন তিনি।
যৌথসভার শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ২১তম জাতীয় সম্মেলনের পর নবনির্বাচিত কমিটি প্রথম যৌথসভা এটি। যৌথসভাটি দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে উৎসর্গকে করেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। এছাড়াও সভায় এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয় এবং শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর বৈঠকের মূলতবি ঘোষণা করা হয়।
আগামীকাল শনিবার (৪ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যৌথসভা সন্ধ্যা ৬টা পরযন্ত মুলতবি করা হয়েছে। মূলতবি সভা আগামীকাল ৬টায় গণভবনে শুরু হবে। সভা শেষে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ যৌথসভায় দলটির কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করে ২০ জন। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফরম সংগ্রহ ও জমা দেন। গত শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী হিসাবে উত্তর আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণে ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরেরদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম এবং কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এছাড়াও ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে আগ্রহী আবেদনপত্র সংগ্রহকারীদের সৌজন্য সাক্ষাতে গণভবনে চা পানের দাওয়াত পান।
উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটিতে কাউন্সিলর সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। আর দক্ষিণে সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫টি। আগামী ৩০ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

0 comments: