Tuesday, February 11, 2020

স্বর্ণের বার দিয়ে ৪৬টি আইফেল টাওয়ার বানাতে পারবে বৃটেন!

বৃটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে পরিমাণ স্বর্ণের বার জমা রয়েছে তা দিয়ে আইফেল টাওয়ারের মতো ৪৬টি টাওয়ার বানাতে পারবে বৃটেন!

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের স্বর্ণের ভল্ট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। বেশ আগে কর্তৃপক্ষ একবার এই স্বর্ণরাজ্য ভ্রমণের জন্যে আগ্রহী জনতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। যদিও সৌজন্য স্মারক হিসেবে পকেটে পুরে নেয়ার কোনো সুযোগ ছিল না! সম্প্রতি বিবিসির সাংবাদিক ফ্রাঙ্ক গার্ডনারের সঙ্গে বিশ্বের মানুষ আরেকবার ঘুরে দেখলো ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে স্বর্ণের ভল্ট। তবে নিরাপত্তা কড়াকড়ি এতোটাই বেশি যে অনেক কিছু চোখে দেখার সৌভাগ্য হলেও ক্যামেরায় ধারণ করার অনুমতি পাননি তিনি।

সবার মনে একই প্রশ্ন: কতগুলো স্বর্ণবার আছে ভল্টে? চার লাখেরও বেশি স্বর্ণবার আছে এখানে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা দিয়ে মোটামুটি আইফেল টাওয়ারের সমান ৪৬টা টাওয়ার বানানো সম্ভব। আবার চাইলে বানিয়ে ফেলা যাবে একশ কোটি বিয়ের আংটি। এমনকি গোটা যুক্তরাজ্য সোনা দিয়ে মুড়ে ফেলা যাবে। তাও আবার দুই একবার না ছয় ছয়বার। অবশ্য এসব স্বর্ণের অধিকাংশই বিভিন্ন ব্যাংকের। ব্যাংকের জাদুঘরে প্রদর্শিত দুটি রোমান স্বর্ণবারসহ এর সামান্য অংশই সরকারের এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের।

সিনিয়র ম্যানেজার এন্ড্রো গ্রিস জানান, এক একটি স্বর্ণবারের ওজন ১৩ কেজি। বর্তমান বাজারে দাম ৪ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো। পুরো ভল্টে আছে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড মূল্যমানের স্বর্ণ। বেশিরভাগ স্বর্ণবার ট্রাপিজিয়াম আকৃতির। ব্যাংকটি মাটির উপরে নির্মাণ করায় তার একটা নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা রয়েছে। এ কারণেই স্বর্ণবারগুলোর এমন আকৃতি দেয়া হয়েছে বলে জানান ভল্টের কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা স্বর্ণবার আবার ইটের আকৃতির। নিউইয়র্কের ফেডেরাল রিজার্ভ ব্যাংক স্তূপাকারে রাখার জন্য এমন আকৃতি বেছে নেয়। এতে করে একটার উপরে একটা স্বর্ণবার সাজিয়ে রাখা সহজ হয়।

আজকের এই ভল্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিমানবাহিনীর স্টাফ ক্যান্টিন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তখন লন্ডনের সব স্বর্ণ পাঠানো হয়েছিলে অটোয়াতে ব্যাংক অব কানাডার ভল্টে।

হলিউডের বিখ্যাত ক্ল্যাসিক কমেডি সিনেমা ‘দ্য লেভেন্ডার হিল মব’ এ ভল্ট থেকে স্বর্ণ চুরি করা গেলেও ১৬৯৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ব্যাংকের ভল্ট থেকে কোনো স্বর্ণ চুরি যায়নি।.

শোনা যায়, ১৮৩৬ সালে এক সুইপার ভল্টের নিরাপত্তা ত্রুটির কথা কর্তৃপক্ষকে জানান। সততার পুরস্কার হিসেবে তাকে ৮০০ পাউন্ড দেয়া হয়েছিল। যদিও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কখনো কিছু বলেনি। নথিপত্রেও এর প্রমাণ নেই। তবে ওই সময় ওই নামে একজন পরিচ্ছন্নকর্মী ছিলেন এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।



0 comments: