Sunday, February 2, 2020

দামুড়হুদার পারকৃষ্ণপুরে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা : ৫ ঘন্টায় ধর্ষক আটক।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুরে সুমাইয়া খাতুন (৭)নামের এক দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীর ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা বিবস্ত্র রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে পার কৃষ্ণপুর গ্রমের কাঠুরিয়া নসিরুল ইসলামের কন্যা ও ছয়ঘরিয়া সরকারী প্রথমিক বিদ্যালযের ২ য় শ্রেণীর ছাত্রী। শনিবার রাত সাড়ে  ১০ টার সময় পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি সিম ক্ষেতের ভিতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ৫ ঘন্টা পর ধর্ষক মেমিনুল ইসলাম ওরফে মন্ডল (২০) কে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। মেমিন পারকৃষ্ণপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে।  বর্তমানে তাকে দামুড়হুদা মডেল থানা হেবাজতে রাখা হয়েছে। সুমাইয়া খাতুনের লাশ রোববার সকালে ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসাতপাতালে প্রেরন করেছে। রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পারকৃষ্ণপুরের প্রধান সড়কে  ধর্ষকের ফঁসির দাবীতে তার স্কুলের সহপাঠীসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগন বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুদ্ধ জনতা ধর্ষকের বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।খরব পেয়ে ঘটনাস্থলে দর্শনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট পৌছায়। তার আগেই ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আলম ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। এদিকে পুলিশ ধর্ষককে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।
পুলিশ জানায়,  শনিবার দুপুরে সুমাইয়া খাতুন স্কুল শেষে বাড়ী ফিরে বের হলে সে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর পার কৃষ্ণপুর  দর্শনা শহরসহ আশেপাশে মাইকিং করা হয়। গ্রামের লোকজন বেশ কয়েকজন টিম করে বিভক্ত হয়ে মাঠে এবং আশে পাশের বিভিন্ন এলাকায় তাকে খুঁজতে থাকে। মাইকিং এর আড়াাই ঘন্টা পর রাত সাড়ে ১০ টার সময়  তার বিবস্ত্র রক্তাক্ত লাশ পারকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে একটি সিম ক্ষেতে  দেখতে পাই। এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (জীবননগর- দামুড়হুদা সার্কেল) মোহাম্মদ আবু রাসেল, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সুকুমার বিশ্বাস, ইন্সপেক্টর তদন্ত জাহাঙ্গীর কবির, দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ওসি শেখ মাহবুব,পার কৃষ্ণপুর-মদনা  ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম জাকারিয়া আলম। দীর্ঘ ক্ষণ এ বিষয়ে তদন্ত করে ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ রাত ১ টার দিকে উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট করে দামুড়হুদা মডেল থানায় নেওয়া হয়। এই ঘটনায় রোববার বিকালে পারকৃষ্ণপুরের প্রধান সড়কে ধর্ষকের ফঁসির দাবীতে তার স্কুলের সহপাঠীসহ এলাকার সর্বস্তরের হাজারো জনগন বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পারকৃষ্ণপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আরতী হালসোনা, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়কারী মো: কিতাব আলী, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন আ:লীগের সাধারন-সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম, দামুড়হুদা লোকমর্চার সভাপিত শহিদুল ইসলাম, দর্শনা সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি হারুন-অর-রশিদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা লোকমর্চার সহ-সাধারন সম্পাদক অ্যাড. হানিফ, চুয়াডাঙ্গা জেলা লোকমর্চার সভাপতি অ্যাড. আলমগীর হোসেন,  পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম জাকারিয়া আলম।

সুমাইয়া খাতুন এর মা পলি বেগম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, শুধু বলছে আমার মেয়ে ভাত খায়নি। সে একা থাকতে পারে না আমার সাথে ঘুমায় আমার সাথে খায়।  কি করছে শীতে সে আমার কাতার ভিতরে ঘুমিয়ে থাকে। আমাকে একটু দেখতে দাও বলে কেঁদে চলেছে।

বক্তরা বলেন,শিশু সুমাইয়া খাতুনের ধর্ষণ ও হত্যাকারীর ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। 
এদিকে সকাল থেকে শিশু সুমাইয়ার লাশ দেখতে এলাকার হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুরা তার বাড়িতে ভিড় জমায়। পরিবারের কান্নায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে থেকে নিজ বাড়িতে আনা হয়। বাদ এশার পর তার লাশ দাফন সম্পর্ন করা হবে জানান স্থানীয়রা
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ওসি শেখ মাহবুব জানান, সুমাইয়া খাতুন কে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ধর্ষক মোমিনুল ইসলাম ওরফে মন্ডল। রাতেই তাকে াটক করা হয়। আটকের পর রোববার বিকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিজ্ঞ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মানিক দাস এর নিকট নেওয়া হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। ধর্ষক সুমাইয়াকে শনিবার দুপুরে কৌশলে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের একটি শিম ক্ষেতের ভিতর নিয়ে যায়। প্রথমে মুখ বেধে তাকে ধর্ষণ করে । পরে তাকে শ্বাষরোধ করে হত্যা করার কথা বিজ্ঞ আদালতের কাছে স্বীকার করে জবানবান্দ দেয়। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। 

0 comments: