রবি টেলিভিশনে আপনাদেরকে স্বাগতম।। রবি টিভিতে সংবাদ পাঠান ইমেইলঃ news.robitv@gmail.com
শিরোনামঃ
লোড হচ্ছে...
।। ,

Sunday, March 15, 2020

দামুড়হুদায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নিহত জাহিদের লাশের ময়না তদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন লাশ সামনে রেখে পুলিশের প্রতি ক্ষোভের বর্হি:প্রকাশ কয়েক বক্তার

দামুড়হুদা ব্যুরো : দামুড়হুদা পুলিশি হেফাজতে নিহত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জাহিদ হাসানের লাশের ময়না তদন্ত শেষে সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপির উপস্থিতিতে সিভিল সার্জন এএসএম মারুফ হাসান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম কবির লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এ সময় হাসপাতাল চত্তরে জড়ো হওয়া ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। 

ময়না তদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুর দেড় টার দিকে লাশ নিজ গ্রাম জয়রামপুরে নেয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে মরহুমের লাশের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী মুনছুৃর বাবু, দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল আলম ঝন্টু, সাধারণ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান মনজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হাজি সহিদুল ইসলাম, দামুৃড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ সদস্য শফিউল কবির ইউসুফ, হাউলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন, যুবলীগ নেতা অ্যাড. আবু তালেব, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হযরত আলী, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোয়াইমেন হাসান জোয়ার্দ্দার অনিক, দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম মল্লিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার হাজারো মানুষ জানাজার নামাজে অংশ নেয়। জানাজার নামাজের আগে লাশ সামনে রেখে বক্তব্য রাখা হয়। এ সময় কয়েক বক্তা পুলিশে প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জাহিদ হাসানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক দোষি পুলিশদের বিচার দাবী করা হয়। পরে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ দিকে যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলার বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। 
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে দামুড়হুদা থানা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে বের হয়। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে দামুড়হুদার জয়রামপুর স্টেশন সংলগ্ন ফকির বাগান নামক গাঁজার আখড়ায় হানা দেয় পুলিশ। এ সময় জয়রামপুর ডিএস দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানকে (৪৫) ফেনসিডিলসহ আটক করেছে পুলিশ। ফেনসিডিলসহ আটক হাবিবুর রহমানকে থানায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জাহিদা হাসান (৪৪)। এ সময় পুলিশের সাথে তার ধস্তাধস্তি হয়। এর কিছুক্ষন পর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জাহিদ ও হাবিবুরকে আটক করে। পরে তাদের থানায় নেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় পুলিশ। পুলিশ পিকআপে থানায় আনার সময় পথিমধ্যে হার্টঅ্যাটাক হয় জাহিদের। তাকে প্রথমে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুব-এ খোদা তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় জাহিদ হাসান। শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করেন জেলা প্রশাসনের দুই জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট (এনডিসি) সিব্বির আহমেদ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিবানী সরকার।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ফেনসিডিলসহ আটকের পর জাহিদের বুকে ব্যাথা শুরু হয় এবং পিকআপের মধ্যেই অস্বুস্থ্য হয়ে পড়ে সে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় জাহিদ। সে একজন মাদকসেবী ছিলেন। তার নামে থানায় একটি মামলাও আছে। সে এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলো। ওই ঘটনায় থানার এসআই রাম প্রসাদ মরকার বাদী হয়ে ফেনসিডিলসহ আটক হাবিবুর ও জাহিদের নামে  মামলা দায়ের করেছেন। হাবিবুর আপাতত পুলিশ হেফাজতে আছে। এলাকাবাসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, জাহিদ তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে জয়রামপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন ফকির বাগানে (গাঁজার আখড়ায়) নিয়মিত গাঁজা সেবন করতো। তবে তার মৃত্যুর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে দোষারোপ করা হয়েছে। জয়রামপুর কলোনিপাড়ার মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে এক কন্যা সন্তানের জনক নিহত জাহিদ জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। # #

0 comments: