Monday, March 2, 2020

ভৈরব নদীতে ধানে সেচের কাজে এখনও দোন- সেঁউতি


মোস্তাফিজ কচি  :-- দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা  ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র  কৃষক বাবলু হোসেন (৬৫)। তার নিজের জমি বলতে আছে মাত্র ১০ কাঠা জমি। তাও আবার ভৈরব নদীর চরে। এদিয়ে সংসার চলে না তাই অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কোনো রকমে চালান তার সংসার। তার এক ছেলে দুই মেয়ে। ছেলে-মেয়ে সবার বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে বা প্রতিবন্ধি আব্দুল হাকিম (৩৫)।এবং  দুই নাতি ছেলে কে  নিয়ে কৃষক বাবলুর সংসার।শুষ্ক মৌসুম বিশেষ করে ইরি চাষের সময় জমি চাষসহ ফসল উৎপাদন করতে তিনি বেশ সমস্যায় পড়েন। কারণ শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে যায়। নদী-পুকুর ও বিলের পানি শুকিয়ে যায়। ফলে তার মতো গরিব কৃষকের পক্ষে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় ও পানি কিনে জমিতে দেওয়া কষ্টদায়ক হয়। যদিও কখনো বাধ্য হয়ে পানি কিনে সেচ কাজে ব্যবহার করেন তখন ফসল উৎপাদনে যে খরচ হয় সবমিলে আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। সোমবার (৩ মার্চ)  উপজেলা ঘুরে দেখার সময় কৃষক বাবলু হোসেন  সেউঁতি দিয়ে জমিতে পানি সেচের দৃশ্য চোখে পড়ে। হতদরিদ্র কৃষক বাবলু প্রতিবেদক কে জানান, আমরা গবিব মানুষ। এখন পানি সেচের জন্য কত আধুনিক যন্ত্রপাতি বের হয়েছে। স্যালো, ডিপ,মর্টার আরও কতো কি ? আমাদের এতো টাকা নাই যে, যা দিয়া আমরা যন্ত্রপাতি কিনতে পারি। এমনিতেই পানির দাম দিতে পারি না।তিনি আরও জানান, আমার কপাল ভালো যে, নিজের জমির পাশে ভৈরব নদী ছিল।কার্পাসডাঙ্গা  ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি শিক্ষক তানিয়া খাতুন জানান, আমি ছোট বেলায় দেখেছিলাম কৃষকরা দোন/ঢোঙ্গা আর সেঁউতি দিয়ে নদী/খাল হতে পানি উত্তোলন করে তারা তাদের জমিতে দিতো। এখন আর আগের মতো চোখে পড়ে না। তবে এখনও গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের দোন ও সেঁউতি দিয়ে পানি উত্তোলন দেখতে পাওয়া যায়। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন-উর রশীদ জানান, এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি সহজলভ্য হওয়ায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ও নদী-পুকুরে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় দোন/ঢোঙ্গা আর সেঁউতির ব্যবহার আর আগের মতো চোখে পড়ে না। তবে যে জায়গাগুলোতে সেচ পাম্প অপ্রতুল সে জায়গাগুলোতে এখনও দোন ও সেঁউতির ব্যবহার দেখা যায়।

0 comments: