Thursday, April 30, 2020

শতশত অভুক্ত পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়

চুয়াডাঙ্গা,অভুক্ত শতশত পাখিরদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন ট্রাফিক সার্জেন মৃত্যুঞ্জয়। চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার চৌরাস্তা মোড়ে প্রতিদিন সকাল ও বিকালে পাখিদের খাবার দিচ্ছেন নিজ উদ্যোগে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি গুলো খাবার খাওয়ার জন্য হাজির হচ্ছেন নির্দিষ্ট স্থানে। পাখিদের খাবার হিসাবে দেওয়া হয় চানাচুর, মুড়ি, বিস্কুট, চাউল। কয়েক দিনেই পাখি গুলোর সাথে ট্রাফিক সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়ের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে বেশ কয়েক দিন ধরে জেলা শহরের বড়বাজার এলাকার হোটেল, ভাজার দোকান, মুদি দোকান, চায়ের দোকানসহ অন্য দোকান গুলো বন্ধ রয়েছে। এই সব দোকান থেকে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে পাখিদের খাবার দেওয়া হত। কয়েক দিন ধরে পাখি গুলো খাবার না
পেয়ে ফিরে যায় অনাহারে।
ক্ষুধার্ত পাখি গুলোর কিচিরমিচির ডাকে সাড়ে দিয়ে এগিয়ে আসেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয়। বর্তমানে সাধারন মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় পাখি গুলো খাবারের জন্য রাস্তায় আসছে।
শনিবার(২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে তিনি পাখি গুলোর খাবারের ব্যবস্থা করছেন। সকালে যখন খাবার নিয়ে হাজির হন ঠিক তখন তাকে পাখি গুলো গাছ, বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদ থেকে উড়ে এসে ঘিরে ধরেন খাবার খাওয়ার জন্য। তিনি নিজ হাতে খাবার গুলো ছিটিয়ে দেন রাস্তায়, তখন পাখি গুলো খাবার খায়। প্রয়োজন মত খাবার খেয়ে পাখি গুলো ফিরে যায়। দিনে দুই বার সকাল ও বিকালে খাবার দেওয়া হয় পাখি গুলোকে।
শালিক, চড়ুই, ঘুঘু, দোয়েলসহ বেশ কয়েক প্রজাতির পাখি দেখা যায়। খাবার দিতে একটু দেরি হলেই পাখি গুলো কিচিরমিচির করতে শুরু করে। পাখির কাছে তিনি আস্তে আস্তে হেটে আসতে শুরু করলেই পাখি গুলো শান্ত হয়ে যায়। পথচারী অনেকেই দাড়িয়ে উপভোগ করেন এ মনোরম দৃশ্য।
মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টির মাঝেও তিনি খাবার দিতে ছুতে আসেন শতশত পাখিদের। বৃষ্টিও তার এ উদ্যোগকে থামাতে পারেনি। দায়বদ্ধতার কারণে ছুটে আসতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, যত দিন এ দুর্যোগ থাকবে ততদিন পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করবেন। একটি পাখিও না খেয়ে থাকবে না। নিজস্ব অর্থায়ানে পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করছি।
পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মৃত্যুঞ্জয় একটি ভাল কাজ করছে। শহরের দোকান ও হোটেল গুলো বন্ধ রয়েছে। তাই পাখি গুলোর খাবারের ব্যবস্থা করছে নিজে থেকে। বিষয়টি আমি পুলিশ হেড কোয়াটাওে জানিয়েছি। তাকে বলেছি পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা নিয়মিত করতে।

0 comments: