Friday, April 3, 2020

সামাজিক দূরত্ব মানতে অনীহা চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও চুয়াডাঙ্গার বেশিরভাগ এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হচ্ছে। সামজিক দূরত্ব মানতে অনীহা দেখে গেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সাধারন ছুটি ঘোষনা করে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও তার কর্ণপাত করছেনা অধিকাংশ মানুষ। স্বাভাবিক দিনের মতো লোকসমাগমে ভরপুর থাকছে গোটা জেলা শহর। তবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসন এমনটাই দাবী জেলা প্রশাসকের।

সাধারন ছুটি ঘোষনার পর রাস্তায় প্রথম তিনদিন সরকারের দেয়া নির্দেশ মানলেও চতুর্থদিন থেকে চুয়াডাঙ্গায় অধিকাংশ মানুষ মানছেনা এসব নিয়মনীতি। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানছেনা সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের বিধান। যত্রতত্র এক অপরের সাথে গাঁ ঘেষে চলাফেরা করছে দেদারছে। অনেকের মুখে নেই মাস্ক, হাতে নেই গ্লাভস।

দিনের বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঘর থেকে রাস্তায় বের হচ্ছে মানুষ। লোকসমাগমে ভরপুর থাকছে শহরের বাজার ও দোকাটপাটগুলো। অন্যান্য সাধারন দিনের মতো সড়কে ছোট যানবাহনের চাপ রয়েছে চোখে পড়ার মতো। ছোট ছোট এসব যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণে মাঝে মাঝে হিমসিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকেও। এদিকে করোনা সম্পর্কে অনেকের মধ্যে নেই সুস্পষ্ট ধারনা। সচেতনতার বালাই নেই তাদের মধ্যে। রাস্তায় বের হওয়ার পর মুখে মাস্ক না পড়ার নানা ধরনের অজুহাত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বড় বাজারে আড়ৎ পট্টিতে বাজার করতে আসা একজন মহিলাকে মাক্স পড়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন মাস্ক পড়ে থাকলে তার গরম লাগে। এজন্য তিনি বাড়িতে মাস্ক রেখে এসেছেন। বাজারের কলা বিক্রেতা রহিম শেখ জানান, করোনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি। সবাই বলছে মুখে মাস্ক পড়তে হবে। আমার মাস্ক নেই তাই মুখে গামছা বেঁধে রাখছি। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতসহ সাধারন মানুষকে সচেতন করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসন। মাঠে রয়েছে সেনা সদস্যরাও। এছাড়া শহরে নিয়মিত ছেটানো হচ্ছে জীবানুনাশক স্প্রে।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, জেলার চার উপজেলাতেই করোনা প্রতিরোধে প্রশাসন কাজ করছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও জীবানুনাশক স্প্রে রাস্তায় ছিটানো হচ্ছে। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে সাধরণ মানুষকে সচেতন হবার পরমর্শ দেন তিনি। জেলার সুশীল সমাজ বলছে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর হতে হবে। নতুবা করোনার প্রভাব বাড়তে সময় লাগবে না।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় একজন করোনা আক্রান্ত রোগী সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ১৫ দিন ভর্তি থাকার পর বুধবার তাকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া জেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে প্রায় ৫শ মানুষ।

0 comments: