Sunday, April 12, 2020

চাল চুরির সঙ্গে জড়িত চার নেতাকে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি

বগুড়ায় গরিবের চাল (খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি) চুরির সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের চার নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার বিকেলে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান দলীয় এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া চাল কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় ৪ নেতাকে পদ–পদবি থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বহিষ্কৃতরা হলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস, নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আনসার আলী, সারিয়াকান্দির কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজিউল হক গাজী এবং শিবগঞ্জের সৈয়দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাজু।
জানা গেছে, র‌্যাব বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির সদস্যরা ১১ এপ্রিল মধ্যরাতে নন্দীগ্রামের শিমলা বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান আনিসের বাড়ি ও শোরুম থেকে ১৬৮ বস্তা দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা চাল উদ্ধার করেন। এ সময় আনিস ও তার সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা আনসার আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‌্যাব তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
অন্যদিকে, শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ১১ এপ্রিল দুপুরে উপজেলার গণকপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে ১০২ বস্তা চালসহ মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে। তিনি পুলিশকে জানান, চালগুলো তার চাচাতো ভাই সৈয়দপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাজুর। পরে পুলিশ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এদিকে, ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে ২৮৮ বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ৬ এপ্রিল সকালে কুতুবপুর বাজার থেকে ডিলার, কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজিউল হক গাজীকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে রবিবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি চাল আত্মসাতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু ও সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু। নেতৃবৃন্দ চাল চুরির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন

0 comments: