Friday, April 24, 2020

ক্ষুর্ধাত পাখীদের খাবার দিলেন পাখীপ্রেমী দামুড়হুদার এসিল্যান্ড মহিউদ্দীন


নিজস্ব প্রতিবেদক :-- বেলা সাড়ে ১২ টা। জরুরী কাজে চুয়াডাঙ্গা চৌরাস্তার মোড়ে পৌছানো মাত্রই প্রশাসনের গাড়ি দেখে কয়েকশো শালিক পাখির জটলা। থমকে গেলেন দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মহি উদ্দিন। তাকে দলবেঁধে ঘিরে ধরে পাখা ঝাপটিয়ে কিচির-মিচির শব্দে কি যেন বলতে যাচ্ছে পাখিরদল। ক্ষুধার্ত পাখিদের আদরমাখা পাখা ঝাপটানোর দৃশ্য দেখে সহজেই বুঝতে পারলেন পাখিদের আকুতি। তিনি তাৎক্ষনিকভাবে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করলেন। আপন হাতে খাবারগুলো ছিটিয়ে দিলেন সড়কে। এ যেন অন্য রকম এক ভাল লাগা। যা কোটি টাকা দিয়েও কেনা অসম্ভব। এই দিনটির কথা সারা জীবনেও ভুলবেনা তিনি। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মহি উদ্দিন বলেন, গাড়ী থামাতেই ঘিরে ধরলো হাজারো পাখি। মনে হলো যেন বলছে আমাদের খাবারের প্রধান উৎস হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ বেকারিগুলো তোমরাই বন্ধ করেছো। সুতরাং এখন তোমাকেই খেতে দিতে হবে। ক্ষনিকের জন্য হারিয়ে গেলো মন। শুধুই ভাবছি সৃষ্টিকর্তার কথা। কি তার লীলা খেলা। করোনার ছোবলে যখন থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। বন্ধ রয়েছে সমস্ত খাবারের হোটেল। এ যেন লকডাউন ভেঙ্গে খাবারের জন্য পাখিদের আর্তনাদ। বিধাতা তার গভীর ভালোবাসা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এই সুবিশাল বিশ্বব্রহ্মান্ড। মানুষের প্রধান কর্তব্যই হচ্ছে স্রষ্টার উপাসনা করা। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন উপায়ে স্রষ্টাকে উপাসনা করা যায়। এরমধ্যে শ্রেষ্ঠ পথ হচ্ছে তাঁর সৃষ্ট জীবকে ভালোবাসা। জীবের প্রতি ভালোবাসার পথ ধরেই স্রষ্টাকে খোঁজ করার নির্দেশনাও রয়েছে ধর্মীয়ভাবে। সৃষ্টির ভেতর দিয়েই স্রষ্টার প্রকাশ। প্রত্যেক সৃষ্টির মাধ্যেই তিনি বিরাজমান। এ সত্য সকল মহাজ্ঞানী ধর্মপ্রবর্তকরা তা একবাক্যে স্বীকারও করেছেন। তাঁর সৃষ্ট জীবকে সেবা করলে প্রকারান্তরে তাঁকেই সেবা করা হয়। তাই আসুন মানুষসহ সকল প্রাণিকুলের পাশে। 



0 comments: