Saturday, April 18, 2020

বাচ্চা মেয়েটির লাশ রাখার জন্য খাটিয়া পাওয়া যায়নি

আজ সকালটাই শুরু হয়েছে খারাপ খবর দিয়ে। তাই মনটা সারাদিন ভারাক্রান্ত ছিল। ছোট্ট অথৈ এর মায়াভরা মুখ বার বার চোখে ভাসছে, আর নিজের সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে উৎকন্ঠা বোধ করছি। কর্মজীবী মা হিসেবে নিজের দুই বছরের বাচ্চাকে রেখে সবসময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু দিন শেষে অন্য সব নারীর মতো আমিও একজন মা এবং মায়ের দায়িত্ব শুধু মা-ই বোঝে। তাই দিনশেষে সন্তানকে আদর করতে গেলেও এক অজানা আতঙ্ক মাথায় ভর করে। আমার দ্বারা সে আক্রান্ত হবে না তো?
যে কথাটা না বললেই নয়, আজ যে বাচ্চাটি মারা গেছে তার জানাজা পড়াতে রাজি হননি স্থানীয় ইমামরা। পাড়া প্রতিবেশীরাও আসেনি জানাজাতে। এমনকি লাশ রাখার জন্য কোন খাটিয়া পাওয়া যায়নি। এটা খুবই দুঃখজনক। সকাল ৬ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত স্থানীয়রা এগিয়ে না আসায় চেয়ারম্যান, ইমাম, ডাক্তার, হাসপাতাল সবখানে যোগাযোগ করার পর প্রশাসনের উদ্যোগে দাফন কমিটিকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই মাথাভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে, তার সর্বাত্মক সহযোগিতায় দাফন কাজ সম্পন্ন হয়। ধন্যবাদ জানাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসক ড. শহিদুল্লাহসহ রাতে ডিউটিরত সকল ডাক্তারকে যারা অথৈকে বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করেছেন।
আজকে যারা এগিয়ে আসেননি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনাদের কি মৃত্যু হবে না? আপনার প্রিয়জন কি মারা যাবে না? নাকি আপনারা অমর?
সামনে ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। তাই কিছু প্রস্তাব রাখলাম…
১.চেয়ারম্যান এর তত্বাবধানে প্রত্যেক ইউনিয়ন এ অন্তত একটি খাটিয়া প্রস্তুত রাখতে হবে।
২.প্রত্যেক ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যানবৃন্দ এলাকাবাসীর সাথে আলোচনাক্রমে একটি কমন কবরস্থান নির্বাচন করে রাখুন।
৩. ইতোমধ্যে দাফন ও সৎকার কমিটি করা হয়েছে, কিন্তু কেউ যদি সেচ্ছাসেবী হিসেবে মৃতদেহ গোসল এবং দাফন/ সৎকারে উৎসাহিত হলে তাদের নাম,ফোন নাম্বার দিন।(হিন্দু + মুসলিম) ইউনিয়নভিত্তিক।
৪. দাফন/সৎকার কমিটির জন্য পিপিইর ব্যবস্থা। (ধনাঢ্য ব্যক্তিদের প্রতি আহবান)
৫. অ্যাম্বুল্যান্স এর ব্যবস্থা।
সকলেই সুস্থ থাকুন, মানবতার জয় হোক।
লেখক: উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হোমনা, কুমিল্লা।
[ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]

0 comments: