Thursday, May 7, 2020

বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এর বিস্তার ঠেকাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণসহ চলাচল সীমিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতেও যেন রাশ টানা যাচ্ছে না করোনার। এ পরিস্থিতিতে মানুষকে বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘কঠোরভাবে’ দায়িত্ব পালনের অনুশাসন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুশাসন দেয়া হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান।
সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস বৈঠকে নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। সবাইকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। পার্টিকুলারলি সরকার কিছু কিছু জায়গা ওপেন করে দিয়েছে। এখানে সরকারি পক্ষ থেকে বিভিন্ন এজেন্সিকে খুব স্ট্রিক্ট-ভিউতে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি জনসাধরণকে কো-অপারেশন দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এ জিনিসটা বুঝতে হবে যে, এটা একটা মহামারী এবং কমিউনিটির দিকটায় খুব গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ জনসাধারণ যদি এ বিষয়ে সম্পৃক্ত না হন এবং তারা যদি কো-অপারেট না করেন, তারা যদি নিজেরা সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং যেটা আছে বা সেলফ কোয়ারেন্টিন আছে- এগুলো যদি যথাযথভাবে মেনে না চলার চেষ্টা করেন, তাহলে কিন্তু করোনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা দুষ্কর হবে।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় গত ২৬ মার্চ থেকে সব অফিস আদালত ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। কয়েক দফায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ১৬ মে পর্যন্ত। তবে রোজার ঈদ সামনে রেখে শর্তসাপেক্ষে শপিং মল ও দোকানপাট খোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এক মাস বন্ধ রাখার পর মসজিদে আবার জামাতে নামাজ পড়ারও সুযোগ দেয়া হয়েছে।
দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসার পরও এভাবে লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও বলেছেন, সব কিছু খুলে দিলে রোগী বাড়বেই।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭০৬ কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, তাতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৪২৫ জন। এই সময়ে আরও ১৩ জনের মৃত্যুতে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৯ জন হয়েছে।
সূত্র,  বাংলাদেশ জার্নাল

0 comments: