Friday, May 8, 2020

দামুড়হুদায় নতুন করে আরও ২ জন করোনায় সংক্রমিত : সাবধান, ফোর-জি গতিতে ছুটছে করোনা

 দামুড়হুদায় দেরীতে হলেও শেষমেষ অগ্নিমূর্তী ধারণ করতে চলেছে করোনা ভাইরাস। খানিকটা পিছিয়ে পড়ায় এখন ফোর-জি গতিতে ছুটতে শুরু করেছে করোনা। উপজেলার একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে বেশ জোরে-শোরেই জানান দিচ্ছে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস। গত বুধবার উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামে প্রথম বারের মতো করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি সনাক্ত হওয়ার দু দিনের মাথায় নতুন করে আরও দুই জনের দেহে মিলেছে করোনার উপস্থিতি। নতুনভাবে সংক্রমিত দুজনের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ। তাদের উভয়েরই বয়স ৩৫ থকে ৪০ এর মধ্যে। সংক্রমিত মহিলা কলাবাড়ির করোনায় আক্রান্ত হোম আইসোলেশনে থাকা বশীরের স্ত্রী। অপরজনের বাড়ি লোকনাথপুরে। তিনি ছোট দুধপাতিলা কমিউনিটি ক্লিনিকের হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার। এ ছাড়া দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন সিস্টারের দেহেও করোনার উপস্থিতি মিলেছে। তবে তিনি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্মরত। নতুনভাবে আক্রান্তদের মধ্যে মহিলাকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও খাদ্য সামগ্রী দিয়ে তার নিজবাড়িতে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এবং হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার ও সিস্টারকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাদের উভয়ের বাড়িসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি প্রশানের পক্ষ থেকে লকডাউন করা হয়েছে। 

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মুনিম লিংকন জানান, করোনায় আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়াদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রাখা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষকিভাবে নজর রাখা হচ্ছে। তিনি সকলকে বাড়িতে থাকার আহবান জানিয়ে আরও বলেন, এলাকায় যে ভাবে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে তাতে আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। করোনা মোকাবেলায় কঠোর হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই বলেও জানান তিনি। দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ বলেন, নতুনভাবে আক্রান্ত ওই দুজনের গত বৃহস্পতিবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গতকাল শুক্রবার রিপোর্ট আসে তারা উভয়ই পজিটিভ। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, নিজের মধ্যে কোন ধরণের দূর্বলতা দেখা দিলে সাথে সাথে পরীক্ষা করানো উচিৎ। কারণ এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যারা কারোনায় আক্রান্ত অথচ তাদের দেহে করোনার কোন উপসর্গ নেই। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী তাদের  করোনার কোন উপসর্গ নাউ থাকতে পারে। করোনায় আক্রান্ত অথচ দেহে কোন উপসর্গ নেই এমন ব্যক্তিরাই বর্তমানে সবচেয়ে বেশী ভয়ঙ্কর। সরকারিভাবে সামাজিক দুরত্বে বিষয়টি বারবার বলা হলেও আমরা তা থোড়ায় কেয়ার করে হাটে-বাজারে অযাথা ঘুরাঘুরি করছি। আমরাই করোনা ভাইরাসকে আমরাই আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাচ্ছি নিজ বাড়িতে। যে কোন সময় যে কাউকে আক্রমন করতে পারে প্রাণঘাতি কোভিড-১৯। তাই আর অবহেলা নয়। করোনার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে সবাই ঘরে থাকি। নিজে স্বুস্থ্য থাকি, পরিবারকে স্বুস্থ্য রাখি

0 comments: