Thursday, May 21, 2020

আম্পানের তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গ লণ্ডভণ্ড, ৭২ জনের মৃত্যু

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৭২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে কলকাতায় মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। এছাড়া, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭ জন ও হাওড়ায় ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলি থেকেও মৃত্যুর খবর এসেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে আম্পান পরবর্তী রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আহ্বান জানালেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ে যেন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে শহর। দুই ২৪ পরগনাসহ দক্ষিণের জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যেই নিহতদের পরিবার প্রতি ২ লাখ রূপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন তিনি। আরো জানিয়েছেন বিপর্যস্ত জেলা পুনর্গঠনে ১০০০ কোটি রূপির তহবিল গঠন করার কথা।
দুর্যোগের এই সময়ে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সাহায্যের কথাও বলেছেন তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার ঘূর্ণিঝড় আম্পান পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়ে। ১৮৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝড়ে বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষকে নিরাপদ জায়গায়. পৌঁছে দিতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় প্রশাসনকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগে এই ধরনের বিপর্যয় তিনি দেখেননি। তিনি বলেন, ‘বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। আমি ঘোষণা করছি, সাইক্লোন আম্পানে মৃতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আম্পানে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা করোনাভাইরাসের চেয়েও বেশি।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা দুটো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ নেই।
মমতা বন্দপাধ্যায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বলব, এসে দেখে যান কী পরিস্থিতি।’
ভারতের সংবাদমাধ্যম এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতায় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৩৭৮টি গাছ উপড়ে পড়ার খবর এসেছে। ঘরবাড়ি ভেঙেছে ৯টি। কলকাতায় অধিকাংশ রাস্তাতেই গাছ পড়ে রয়েছে। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হওয়ায় ব্যাহত ট্রাফিক সিগন্যালও। শহর স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

0 comments: